বরুড়া কন্ঠ ডেস্ট রিপোর্ট:
বরুড়া বাজারের দীর্ঘ দিনের সমস্যা এই যানজট। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনটাই আলোর মুখ দেখাতে পারেনি। যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। একদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ,বাজারের চারপাশ ঘিরে ঘনবসতি, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলের পাশাপাশি ও স্বজনপ্রীতি সহ বিভিন্ন অনিয়ম অত্র বাজারে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী বলে মনে করি।
এমতাবস্থায় এই বাজারের দীর্ঘ দিনের যানজট সমস্যার সমাধানের প্রশ্নে যদি সম্মিলিতভাবে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে হয়তোবা উক্ত সমস্যাটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করি।
(১) দিনের বেলায় যে কোন মালবাহী যানবাহন যেমন —, বড় ট্রাক, বালুর ড্রামট্রাক, ট্রাকটর, ক্যাভার্ড ভেন সহ সবধরনের বড় যানবাহন বাজারের ভিতরে সকাল ৮:০০ থেকে রাত ১০:০০ পর্যন্ত চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, উল্লেখ্য যে– এক্ষেত্রে রাত ১০:০০ টার পর থেকে সকাল ৮:০০ টার আগ পর্যন্ত এসকল যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত নিয়ম চালু করা।
(২) সরকারী হাসপাতালের মোড় থেকে হাজী নোয়াবআলী হাইস্কুলের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডার স্হাপন সহ রাস্তার উভয় পাশে
কমপক্ষে সাড়ে তিনফুট উচ্চতার শক্ত লোহার গ্রীল স্হাপন করা এবং সেই সাথে এখানকার জেব্রা ক্রসিংয়ের শৃঙ্খলার দ্বায়িত্বে শিফট অনুযায়ী একজন ভলান্টিয়ার নিযুক্ত করা।
(৩) হাজী নোয়াব আলী হাই স্কুলের মোড় সংলগ্ন জেব্রা ক্রসিং থেকে পশ্চিম দিকে এসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোড় পর্যন্ত মাঝ বরাবর ডিভাইডার স্হাপন সহ রাস্তার উভয় একই নিয়মে লোহার গ্রীল স্হাপন সহ উক্ত স্হানে একটি জেব্রা ক্রসিং স্হাপন করে শিফট অনুযায়ী ভলান্টিয়ার নিযুক্ত করা।
(৪) জিরো পয়েন্টের দঃ পাশে বর্তমানে যে সিএনজি স্টেশন আছে , তা জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের গলিতে অথবা জিরো পয়েন্টে খালি করা জায়গাটিতে আপাততঃ স্হানান্তর করা।
(৫) জিরো পয়েন্টের সার্বিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার সুবিধার্থে শিফট অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কমপক্ষে দুইজন ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা করা।
(৬) জিরো পয়েন্টের পশ্চিমে
দঃ পাশের কাপড়িয়া গলির রাস্তাটিকে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পশ্চিম দিকে যাওয়ার নিয়ম চালু করা এবং এর উঃ পাশের মুদি গলির রাস্তাটিকে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে থানা রোড থেকে আসা এবং উপজেলা প্রশাসনিক এলাকা সহ পশ্চিম এলাকার সকল যানবাহনকে পূর্বদিকে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করা, এক্ষেত্রে ঐ দিক থেকে আসা যে সকল যানবাহন পূর্ব দিকে যাওয়ার সকল যানবাহনকে জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের গলি ব্যবহারের নিয়ম চালু করা।
(৭) কাড়িয়া গলি ও মুদি গলির পশ্চিম পাশের মোড়ে স্পিড ব্রেকার স্হাপন সহ শিফট অনুযায়ী ভলান্টিয়ার নিয়োজিত করা।
(৮) জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের মোড় থেকে সোজা উঃ দিকের মোড় অর্থাৎ
যে রাস্তাটি হাজী নোয়াব আলী হাই স্কুলের মোড় থেকে এখানে সংযোগ হয়েছে, এ পর্যন্ত রাস্তার মাঝ বরাবর ডিভাইডার স্হাপন সহ রাস্তার উভয় পাশে পূর্বের নিয়মে লোহার গ্রীল স্হাপন করা।
(৯) ফুটপাতের মাঝে অবস্হিত সকল বিদ্যুতের পিলার অপসারণের ব্যবস্থা করা এবং পাশাপাশি ফুটপাতকে চাঁদাবাজ থেকে দখলমুক্ত রাখা।
(১০) রাস্তার পাশে সকল বেসরকারি হাসপাতাল সহ বড় বড় হার্ডওয়্যারের দোকান ও রড সিমেন্ট এবং টিনের দোকান সমূহের সামনে তাদের নিজস্ব জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা।
(১১) সরকারি হাসপাতালের মোড় থেকে থানা রোডের মোড় এবং জিরো পয়েন্ট থেকে চান্দিনা রোডের মোড় পর্যন্ত নির্দিষ্ট জায়গা ব্যতীত যে কোন যানবাহনের
ক্ষেত্রে বাজারের ভিতরে কোথাও যাত্রী উঠানামা করানোর বিষয়ে কঠোর নিয়ম বাস্তবায়ন করা।
(১২) বাজারের সকল জেব্রা ক্রসিং ও স্পিড ব্রেকার সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দ্বায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য সিসি ক্যামেরা স্হাপন সহ এর নিয়ন্ত্রণে একজন আইটি স্পেশালিষ্ট নিয়োগ করা।
আপাত দৃষ্টিতে এই পরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করা গেলে বরুড়া বাজারের দীর্ঘ দিনের যানজট কিছুটা নিরসন হতে পারে বলে মনে করি।
Reporter Name 









