বরুড়া কন্ঠ ডেস্ট রিপোর্ট:
বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত স্হানীয় বরড়া বাজারের যানজট নিত্য দিনের চিত্র, যার মূলে রয়েছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ, উপজেলা এরিয়াতে ঘনবসতি, আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিত্য নতুন সামগ্রী ক্রয়, অধিকাংশ নাগরিক প্রবাসে থাকার কারনে মহিলাদের বাজার সদাই, এছাড়াও যে বিষয়টি সবচাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো প্রায় প্রতিটি নবজাতক হাসপাতালে ডেলিভারীর কারনে স্হানীয় সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতালে আসা যাওয়া সহ আরো বেশ কিছু বিষয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে, যেমন, দিনের বেলায় বাজারের ভিতর মালবাহী ট্রাক, ডাম্পার সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে তাদের নিজস্ব পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকা, রাস্তার পাশের বেসরকারি হাসপাতাল, রড সিমেন্টের দোকান, রেডিমেড ফার্নিচারের দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, এসকল প্রতিষ্ঠানের সামনে গাড়ী পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই, মোটকথা বাজারের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পরনির্ভরশীল অর্থাৎ বাজারের মূল রাস্তা তাদের গাড়ী পার্কিংয়ের একমাত্র ভরসা, তাছাড়া হাসপাতালে এম্বুলেন্স অথবা যে কোন যানবাহন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মূল রাস্তাকেই পার্কিং স্পট হিসেবে খুব সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে, এভাবে বাজারের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একমাত্র রাস্তাটিকে অবাধে ব্যবহার করছে, মোটকথা বাজারের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তামুখী হওয়াতে এখানে কেনাকাটা করতে আসা সকল নারীপুরুষ তাদের সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে কেনা কাটা করা, যেখানে সেখানে যানবাহন পার্কিং করা, আবার যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়ার সময় ভাংতি দিতে গিয়ে সময় অপচয় সহ নিয়ম শৃঙ্খলার বেশ কিছু শূন্যতার কারনে আজকের এই বরুড়া বাজার যানজটের বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
সেই দৃষ্টিকোন থেকে এবং ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে যদি আমরা সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি যৌথ আলোচনার মাধ্যমে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সহ নুতন আঙ্গিকে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে হয়তোবা আশা করা যায়, দীর্ঘ দিনের বরুড়া বাজারের এই যানজট সমস্যা হয়তোবা কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পারে —
(১) দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাজারের ভিতরে বলাকা বাস ব্যতীত সব ধরনের ট্রাক, পিআপ ভেন, ট্রাকটর সহ সকল মালবাহী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, যেমন —-, সকল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কোন ভারী যানবাহন বাজারে প্রবেশ অথবা বাজারের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না, এক্ষেত্রে গুরুত্ব অনুযায়ী রাত দশটা থেকে দিনের আটটা পর্যন্ত শুধুমাত্র এই সময়টাতে তাদের যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারবে, এতে করে বর্তমানে দিনের বেলায় মালবাহী যানবাহন চলাচলের কারনে যেভাবে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, এরই সাথে মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় হয়, কাজের বিঘ্ন ঘটে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
(২) হাসপাতালের মোড় থেকে হাজী নোয়াব আলী হাইস্কুল মোড় পর্যন্ত রাস্তার মধ্যখানে ডিভাইডার স্হাপন করা এবং উভয় পাশে কমপক্ষে সাড়ে তিনফুট উচ্চতা সম্পন্ন লোহার গ্রীল স্হাপন করা এবং এখানকার মোড়ে জেব্রা ক্রসিং সহ একজন ভলান্টিয়ার নিযুক্ত করা।
(৩) হাজী নোয়াব আলী হাই স্কুলের মোড় থেকে পুরাতন মাদ্রাসা সংলগ্ন মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার লোহার গ্রীল স্হাপন করা সহ মাঝ বরাবর ডিভাইডার স্হাপন ও একটি জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি একজন ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা করা।
(৪) বর্তমান জিরো পয়েন্টে রাস্তার উপর যে সিএনজি /অটোরিকশা স্যান্ড রয়েছে, তা জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের গলিতে স্হানান্তর করা।
(৫) বিগত কিছুদিন আগে জিরো পয়েন্টে খালি করা যে জায়গাটি অলস পড়ে আছে, তা আপাতত সিএনজি/অটোরিকশার স্যান্ড হিসেবে শৃঙ্খলা নিয়মানুযায়ী ব্যবহারের ব্যবস্থা করা।
(৬) জিরো পয়েন্টে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শিফট অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দঃ ও উঃ পাশের মোড়ে একজন করে দুজন ভলান্টিয়ারের সু-ব্যবস্থা করা।
(৭) দঃ পাশের কাপড়িয়া পট্টির রাস্তার দুপাশে সাড়ে তিনফুট উচ্চতা সম্পন্ন লোহার গ্রীল স্হাপন করা, তাছাড়া রাস্তাটিকে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পশ্চিমমুখী করা অর্থাৎ যে সকল যানবাহন পশ্চিম দিকে যাওয়ার, এসকল যানবাহন কাপড়িয়া পট্টির রাস্তাটি ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
(৮) থানা রোড এবং উপজেলা সহ পশ্চিম এলাকা থেকে আসা সকল যানবাহন পূর্বদিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যের মুদি গলিকে ব্যবহারের বাধ্য বাধ্যবাধকতা
থাকবে এবং এই পথে আসা যে সকল যানবাহন কুমিল্লাগামী যানবাহনগুলো জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের গলি ব্যবহার করবে এবং যারা উঃ দিকে যাবে তারা সোজা বাম পাশ হয়ে উঃ দিকে চলে যাবে।
(৯) জিরো পয়েন্টের উঃ পাশের গলির মোড় থেকে চান্দিনা রোডের মাথা পর্যন্ত রাস্তার মধ্যখানে ডিভাইডার স্হাপন করা।
(১০) হাসপাতাল রোড থেকে থানা রোড, জিরো পয়েন্ট থেকে পাট বাজারে পুল, জিরো পয়েন্ট থেকে চান্দিনা রোডের মাথা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ফুটপাতের মাঝ বরাবর যেসকল বিদ্যুতের পিলার রয়েছে, এগুলো অপসারন করে ফুটপাতকে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। যেন সকল নারীপুরুষ ফুটপাতে চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
Reporter Name 









